৩৩ বছর পরও ইত্যাদি সমান জনপ্রিয়

৩৪ বছরে পদার্পণ করল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। গত ৩১ ডিসেম্বর বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে একযোগে প্রচারিত এবারের ইত্যাদিও ছিল বরাবরের মতো নান্দনিক। এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া ডাকবাংলো চত্বরে। এবারের পর্বের মাধ্যমে জানা গেল না জানা অনেক কিছু। প্রথম সেনা সভা শেষে কর্নেল এমএজি ওসমানী গুলি ফুটিয়ে এখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এবারের অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ ও তেলিয়াপাড়া এবং এ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর ওপর ছিল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন।

বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন ছিল হৃদয়ছোঁয়া। জীবনযুদ্ধে বিজয়ী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সুজন কুমার বিশ্বাসের সফলতার গল্প দর্শকদের আবেগে আপ্লুত করেছে। যার চলার পথের প্রতিটি বাধাকে একান্ত আপনজনের মতো সামনে এগিয়ে দিয়েছেন সমাজসেবক ব্যবসায়ী কুতুবউদ্দিন আহমেদ। সুজন কুমার বিশ্বাস ও কুতুবউদ্দিন আহমেদের এ অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে এগিয়ে আসবেন অনেকেই।

কক্সবাজারের মো. ফরিদুল আলমের দোকান ‘আলাদীনের চেরাগ’-এর ওপর প্রচারিত প্রতিবেদনটি ছিল শিক্ষণীয়। ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের এক বিস্ময়বালক সামিউল আলিম সাদকে নিয়ে প্রতিবেদনটিও ছিল দর্শনীয়। করোনার মহামারিতে স্কুল বন্ধ থাকলেও মাত্র সাড়ে সাত বছর বয়সি শিশু সাদ এ সময়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্জন করেছে অসাধারণ পারদর্শিতা। এ ছাড়া এবারের ইত্যাদির প্রত্যেকটি নাট্যাংশ ছিল সমসাময়িক। দর্শকপর্বটিও ছিল বেশ উপভোগ্য এবং ব্যতিক্রমী। ভালো লেগেছে সেলিম চৌধুরী ও আশিকের খণ্ডিত গান। এ ছাড়া মামা-ভাগ্নে, নানি-নাতি, নৃত্য এবং সামিনা চৌধুরী ও ফাহমিদা নবীর গান ছিল প্রশংসনীয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, বরাবরের মতো এবারের বিজয়ের মাসে ধারণকৃত ইত্যাদিও ছিল অনবদ্য, অসাধারণ, প্রেরণাদায়ক-যা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সাহায্য করে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*