র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায়ীরা চিন্তিত

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায়ীরা চিন্তিত
যুগান্তর প্রতিবেদন
০৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing button
র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায়ীরা চিন্তিত
প্রতীকী ছবি
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেছেন, র‌্যাব ও সংস্থাটির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। কারণ এতে বাজার হারানোর শঙ্কা রয়েছে। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের বের হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন নন তারা। অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত সংলাপে বুধবার তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে এই সংলাপ পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম। এ সময় সংগঠনের সহসভাপতি ও বার্তা সংস্থা এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর বিজিএমইএ সভাপতির কাছে এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা, করোনা মহামারি এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি (গ্লোবালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স-বৈশ্বিক অগ্রাধিকার খাত) বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহত্তম এই বাজারে তৈরি পোশাক জিএসপি সুবিধা পেত না। এখনো পাচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছিল সেগুলো পোশাক মালিকরা ও সরকার বাস্তবায়ন করেছে। কমপ্লায়েন্স বা নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এ দেশের উদ্যোক্তারা প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন। বিশ্বের নিরাপদ কারখানা এখন বাংলাদেশে। ১৫৩টি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে দেশে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা তাদের কাজটি করেছেন। এখন জিএসপি দেওয়া না দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়। তিনি বলেন, দেশটির জিএসপি সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে শুধু শর্ত বাস্তবায়ন নয়, রাজনীতিও জড়িত। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে। আগামীতে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র‌্যাব ও সংস্থাটির কিছু কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবসায় প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। তবে ব্যবসায়ীদের কাজ তারা করছেন। আমরা কোনো বাজার হারাতে চাই না। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের শীতল সম্পর্ক, র‌্যাব ও র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রতি আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা, আগামী বছরের শেষে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আগামী নির্বাচন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ী হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রত্যাশা থাকেব-কারখানায় উৎপাদন ও পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়, এমন কোনো কর্মসূচি যেন তারা না নেয়। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেই পরিবেশ বজায় থাকতে হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যবসা করলে রাজনৈতিক আশীর্বাদ লাগে, এটি ঠিক নয়। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এলডিসির তালিকা থেকে বাংলাদেশের বের হয়ে যাওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন। কারণ এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিজিএমইএ, সরকার ও ক্রেতা দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ শুরু করেছে। দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ বাড়ানো, পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধাহীন বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের টিকে থাকা নিয়ে আপাতত কোনো সংশয় দেখা যাচ্ছে না। ফারুক হাসান বলেন, বর্তমানে তাদের কৌশল হচ্ছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল, অর্থাৎ ২০২৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারের সুবিধা নেওয়া। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৬ সালের পরে যে বাড়তি তিন বছর শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধায় রপ্তানির সুযোগ দেবে, আলোচনার মাধ্যমে এই সময়সীমার মেয়াদ বাড়ানো। বিজিএমইএ ইইউর কাছে ১০ বছরের জন্য এই সুবিধা চায়। এরপর বিজিএমইএ ইইউর সঙ্গে জিএসপি প্লাস নিয়ে আলোচনা করবে। তবে পোশাক মালিকরা চান, এই সময়ের মধ্যে সরকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে মুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করবে। তিনি বলেন, বিজিএমইএ সব সময় পুরো খাতের উন্নয়নে কাজ করেছে, এখনো করে চলেছে। এই সংগঠনটিতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা সবাই পোশাক শিল্পের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। তিনিও উত্তরসূরিদের মতো করে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ফারুক হাসান বলেন, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় পোশাক খাতের এসএমই প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করতে বিভিন্ন ধরনের চার্জ ও ফি কমানো হয়েছে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাজার ও পণ্য বহুমুখীকরণের কাজ চলছে। বৈশ্বিক চাহিদা অনুসারে যাতে পোশাক দেশে বেশি তৈরি হয়, সেজন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গবেষণা জোরদার করা হয়েছে। এক কথায় বিজিএমএর ভূমিকা ভবিষ্যৎমুখী করার চেষ্টা চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স ২০ থেকে ৩০ বছর আগে নেওয়া। তিন দশক আগে বাংলাদেশ যে ধরনের পণ্য তৈরি করত, এখন তার চেয়ে ভিন্ন ও উন্নত পণ্য তৈরি করছে। ফলে পুরোনো বন্ড লাইসেন্সে অনেক পণ্যেরই উল্লেখ নেই। কিন্তু ওই লাইসেন্সধারী কারখানার নতুন পণ্যের প্রয়োজন হচ্ছে। তিনি বলেন, লাইসেন্সে উল্লেখ না থাকলেও ব্যবহারিক ঘোষণাপত্রে (ইউডি) তা থাকছে। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনেক সময় পণ্য ছাড় করছে না। এতে ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে আগামী সপ্তাহে রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, অনেকের অভিযোগ ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার, পণ্য ও অত্যাধুনিক ডিজাইনে যাচ্ছেন না। কিন্তু যাওয়ার সুযোগ কোথায়? কাস্টমসের জটিলতার মতো অনেক জটিল বিষয়ের পেছনে ব্যবসায়ীদের দৌড়াতে হয়। এর ফলে এ ধরনের বিধিবিধান সহজ করে দিলে ব্যবসা সহজ হবে। করোনার প্রভাব মোকাবিলায় প্রণোদনার ঋণ পরিশোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক কারখানা ইতোমধ্যে ঋণের কিস্তি দেওয়া শুরু করেছে। আর কিছু প্রতিষ্ঠান পারছে না। কারণ ওইসব প্রতিষ্ঠানের ক্রেতারা মূল্য পরিশোধ করেনি। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানক

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*