৪ মামলায় আসামি ৮০০, অস্ত্রধারীদের আটক করতে পারেনি পুলিশ

সিরাজগঞ্জে গতকাল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। তবে সেই অস্ত্রধারীসহ এখনো আটক হয়নি কেউ। আতংকে শহরবাসী। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার কলেজ রোডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারকারী যুবকদের কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শহরের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার একদিন পর শুক্রবার পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। চারটি মামলায় আট শতাধিক আসামি ও অজ্ঞাত এক হাজার জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দাখিল করা হয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি। মামলার বাদী উজ্জল হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশের আহ্বান করে জেলা বিএনপি। সমাবেশে আসার পথে কলেজ রোড এলাকায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় কয়েকজন যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়। সংঘর্ষে আহত হন সাধারণ মানুষসহ অন্তত শতাধিক।

সিরাজগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক মোল্লা বলেন, সেদিন বিএনপি সমাবেশের নামে শহরে নৈরাজ্য তৈরি করতে চেয়েছিল। তারা পূর্ব থেকে পরিকল্পনা করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত ছিল। চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশে ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র জমা রেখেছিল। তাদের এই পরিকল্পনা আমাদের জানা ছিল না। বিএনপি সমাবেশে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে আমাদের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের উপর হামলা চালায়। ব্যবহার করে আগ্নেয়াস্ত্র সহ দেশীয় অস্ত্র। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত এই সকল অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, সেদিন আমাদের পূর্বঘোষিত জনসভায় যখন নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসতে শুরু করে তখন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা পথের মোড়ে মোড়ে বাধা প্রদান করে গাড়ি ভাংচুর করে। হামলা চালিয়ে ৫০-৬০ জনকে আহত করে। ঐদিন প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করতে দেখেছেন আপনারা সবাই। একটা কথা স্পষ্ট যে সেদিন আওয়ামী লীগ ব্রিজের পশ্চিমে আর আমরা ব্রিজের পূর্বে অবস্থান নিয়েছিলাম। অস্ত্রটি পশ্চিম পাড় থেকে উঁচিয়ে গুলি করছে তা অনেক মিডিয়াতে দেখা গেছে এই অস্ত্রধারীকে। পুলিশ ভিডিও সংগ্রহ করে কেন এই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা চাই আমাদের উপর যারা হামলা করেছে পুলিশ দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করবে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে। হামলাকারীরা আমাদের গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের উপর হামলা করে আমাদের আহত করেছে। তবে সেদিনের সেই অস্ত্রধারীকে আমরাও খুঁজছি। আশা করি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করতে পারবো।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*