লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড : নিখোঁজের ৮ দিনেও সন্ধান মেলেনি পপির

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চ আগুন লাগার ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে ফজিলা আক্তার পপির আট দিনেও সন্ধান মেলেনি। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তার স্বজনেরা।

দুর্ঘটনার পর স্বজনেরা এমভি অভিযান-১০ লঞ্চসহ ঝালকাঠি ও বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে এবং বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ-খবর নিয়েও তার সন্ধান পাননি বলে জানা গেছে।

পপি গত বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) অভিযান-১০ লঞ্চে করে ঢাকা থেকে পাথরঘাটায় রওয়ানা হন। একমাত্র কন্যাসন্তান লামিয়াকে (১৩) বাবার বাড়ি থেকে নিজ কর্মস্থল ঢাকার সাভারে একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য তাকে নিতে পাথরঘাটায় আসছিলেন পপি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হলেন তিনি।

পপির বৃদ্ধ বাবা আফজাল হোসেন বলেন, ‘একমাত্র মাইয়াডারে হারালাইম। এহন ক্যামনে থাকমু। জামাই মাইয়াডারে সাত বছর আগে তালাক দিয়া গেছে। তারপর থিকা জীবন বাঁচাইতে ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি নেয়। কিন্তু কি হইলো-দুর্ভাগা মাইয়াডারে হারাইলাম, ওর লাশটা পাইলেও কবরডা দেখতে পারতাম।’

পপির ১৩ বছরের একমাত্র মেয়ে লামিয়া বলে, ‘মায় কইছিল, বাড়িতে আইয়া মোরে ঢাকায় নিয়া ভালো একটা স্কুলে ভর্তি করাইবো। এহনো মায় আয় নাই। হুনছি যে লঞ্চে আগুন লাগছে হেই লঞ্চেই মোর মায় আছিল। এহন মোরে মা কইয়া কেডা বোলাইবে। মোর মায় কি আইবে? মোরে আর কি কোলে নিয়া আদর করবে।’

এর আগে গত শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে ঝালকাঠি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরগুনার ৩৬টি লাশ গ্রহণ করেন বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান। পরে তিনি ওই লাশগুলো বরগুনা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। পরদিন শনিবার পাথরঘাটার অধিবাসী চারজনের জানাজায় তিনি অংশ নেন।

জাতীয় সংসদের ৩১৫ মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা ঝালকাঠি ও বরিশালের অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা করেন।

সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত পাথরঘাটায় চারজনের লাশ দাফন করা হয়েছে। পপিসহ আরো বেশ ক’জনের সন্ধান এখনো মিলেনি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*