জিপিএ-৫ পেয়ে কান্না থামছে না হাফসার

পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এমন সুখবর পেয়ে বাধ ভাঙ্গা উচ্ছসিত থাকে গোটা পরিবার, আত্মীয় স্বজন। আর হাফসা নামের মেয়েটির এমন ফলাফল অর্জনে মুখে নেই কোনো হাসি, নেই কোন উচ্ছাস। সুগন্ধা ট্রাজেটিতে বাবা মা আর ছোট ভাইকে হারানো হাফসার কাছে দাখিল পাশের জিপিএ ৫ ফলাফল করার এমন সংবাদটাও মনে আনন্দের উৎফুল্লতা আনতে পারেনি।

হাফসা ২০২১ সালে প্রকাশিত এস এস সি ফলাফলে কালিরতবক দাখিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে হাফসার মুখে নেই হাসি। কেঁদেই চলেছেন তিনি। সাফল‍্যর জিপিএ-৫ পেয়ে আনন্দের বিপরীতে যারা তাকে কষ্ট করে মানুষ করলো তারাই যে এই খুশীর সংবাদ শুনতে পারলো না। এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্যে খুশীর খবর দিতে আসা বন্ধু পরিজন সকলের চোখে হাফসার কান্নায় পানিতে ভরে ওঠে।

আজ (শুক্রবার) ছিল হাফসার বিয়ের তারিখ। তার বিয়ের কেনাকাটা করে ঢাকা থেকে ফিরে আসার পথে অভিযান লঞ্চের ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় নিখোঁজ বাবা মা ও ছোট ভাই নসরুল্লাহ। তাদের মরদেহ খুঁজে না পেলেও সুগন্ধা নদীর পাড়ে মিলেছে পোঁড়া বিয়ের শাড়ি আর সুটকেস।

পাখি বেগমের মা ফরিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নাতি ভালো রেজাল্ট করল। শুধু আমার মেয়ে আর জামাই দেখে যেতে পারল না। এই কষ্ট আমি কোথায় রাখি। যদি তাদের লাশ পেতাম তাও মনে সান্ত্বনা দিতে পারতাম।’

বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচড় ইউনিয়নের মানিকখালী গ্রামের আঃ হাকিম শরীফ। চাকুরী করতো ঢাকায় এস এম সি প্রতিষ্ঠানে। স্ত্রী পাখি বেগম ভুগছিলো ব্লাড ক‍্যান্সারে। তার বড় মেয়ে হাফসার সঙ্গে বদরখালী ইউনিয়নের কুমড়াখালী গ্রামের ছেলের সঙ্গে বিয়ের কথা হয়। ছেলেটি একটি বে সরকারি উন্নয়ন সংস্হায় চাকুরী করে। দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ৩১ ডিসেম্বর শুক্রবার বিয়ের কথা ছিল।

হাকিম শরীফ ঢাকায় চাকুরী করার সুবাদে টাকা পয়সা ঢাকায় একটি ব‍্যাংকে জমা রাখতো। মেয়ের বিয়ের কথা চুড়ান্ত দিন পাকাপাকি হওয়ায় ঢাকায় গেছে স্ত্রী পাখি বেগম ও সাত বছরের ছোট সন্তান নাসরুল্লাহকে সঙ্গে করে। ব‍্যাংক থেকে টাকা তুলে বিয়ের কেনাকাটা করে ও বিয়েতে খরচ হিসাবে নগদ টাকা পয়সা সঙ্গে নিয়ে অভিযান ১০ লঞ্চের কেবিনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আজও তারা নিখোঁজ রয়েছে।

পাখি বেগমের মা ফরিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নাতি ভালো রেজাল্ট করল। শুধু আমার মেয়ে আর জামাই দেখে যেতে পারল না। এই কষ্ট আমি কোথায় রাখি। যদি তাদের লাশ পেতাম তাও মনে সান্ত্বনা দিতে পারতাম।’

দুর্ঘটনার খবর শুনে হাফসার মামা নজরুল ইসলাম, নানী ফরিদা বেগম, চাচা মোতালেব শরীফ সহ পরিবারের অনেকজন ঝালকাঠি ও বরিশালে গিয়ে হাফসার বাবা মা ও ভাইকে খুজতে থাকে। সুগন্ধা নদীর তীরে ও লঞ্চে পুড়ে মারা যাওয়া লাশের মধ‍্য থেকে তাদেরকে সনাক্ত করতে পারেনি। লঞ্চে থাকা উদ্ধার কাজে সহয়তাকারীদের মাধ‍্যমে লাগেছ খুজে পায়। হাফসার নানী ফরিদা বেগম সুটকেসে পুড়ে যাওয়া মা পাখি বেগমের কাপড় ও ওড়না দেখে শনাক্ত করে এটি হাফসার জন‍্য কিনে আনা বিয়ের মালামাল ভর্তি সুটকেসের।

হাফসার পরিবারে দাদী ও বোন সুমাইয়া এবং ভাই ফজলুল হক থাকে। বোন দশম শ্রেণিতে ও ভাই স্থানীয় কওমিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। হাফসার পরিবারের তার বাবা মায়ের অবর্তমানে বড় চাচা মোতালেব বলেন, এত বড় দুর্ঘটনার পরেও কোন রকমের সহযোগিতার জন‍্য কেউ আসেনি এই পরিবারের প্রতি। বাবা ও মা ভাইকে হারিয়ে অনেক অসহায় হয়ে পড়লো এই পরিবারটি। হাফসাকে বরগুনা দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। মেধাবী হাফসাকে এখন লেখাপড়া করে ভাই বোনদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেক্ষেত্রে বরগুনার সকলের সহযোগিতা কামনা করেন

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*