থার্টি ফাস্ট নাইট বর্জন করে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন

থার্টি ফাস্ট নাইটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যখন নানান রঙে বর্ণে সাজসাজ রব; আতশবাজী কনসার্টে গান-বাজনা অশ্লীনতা ও বেহায়াপনার মহোৎসব। যুবতীরা আটশার্ট ও নগ্ন পোষাক পরিধান করে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করার জন্য প্রস্তুত।

তখনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় থার্টি ফাস্ট নাইট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে যুব সমাজকে বেদাতি কার্যকলাপ থেকে ফিরায়ে এনে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের সান্নিধ্য লাভের জন্য ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম স্কুল মাঠে থার্টিফাস্ট নাইট বর্জন ওয়াজ মাহফিল মাগরিব থেকে শুরু হয় কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে।

মাহফিলে জাটিগ্রাম শাহ্ আরজানিয়া আস্তানা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জুবায়ের বিন সাঈদের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন- যশোর থেকে আগত মাওলানা মুফতি সহিদুল ইসলাম, নড়াইল থেকে আগত মাওলানা আবু হানিফ সিদ্দিকী ও জাটিগ্রাম বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শাফি উল্লাহ্ প্রমুখ।

মাহফিলে কোরআন ও হাদীসের আলোকে আলোচনা করে বক্তারা বলেন, ঘুরে ফিরে বছর আসে। নতুন এ বছর-এ সময়কে ঘিরে আমরা বিভিন্ন ধরনের উৎসব, আনন্দ অনুষ্ঠান করি। যা বিধর্মীদের রেওয়াজ, কুসংস্কার। যা ইসলামে নিষিদ্ধ। প্রতি বছর ইংরেজী ৩১সে ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে ঘৃণ্য বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে বিশ্ব একটি নতুন বর্ষে পদার্পণ করে।

মুসলিমদের উৎসব হচ্ছে ইবাদতের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা। ইসলাম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়, বরং তা মানুষের গোটা জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী বিন্যস্ত ও সজ্জিত করতে উদ্যোগী হয়। মুসলিমদের ভোগবিলাসের স্থান ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী নয়, বরং চিরস্থায়ী জান্নাত। তাই মুসলিম জীবনের প্রতিটি কাজে জড়িয়ে থাকবে তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, তাদের ঈমান, আখিরাতের প্রতি তাদের অবিচল বিশ্বাস, আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালবাসা।

পরে মধ্যরাতে মুসলিম উম্মার সুখ ও শান্তি কামনা করে এবং সকল প্রকার বেদাত, নাফরমানি, হিংসা, লোভ-লালসা থেকে সকল মুসলিমদের বিরত থাকার জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে আখেরি মুনাজাত করা হয়। সবশেষ তোবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে থার্টি ফাস্ট বর্জন মাহফিল সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*