বাংলাদেশে ১৯০০ টাকায় মেয়ে বিক্রি হয়?’ প্রশ্ন স্বস্তিকার

স্পষ্টকথা বলতে কখনোই পিছপা হন না ভারতীয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা। শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও সাহসী এবং প্রতিবাদী তিনি।

সম্প্রতি এই নায়িকার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে একাধিক নোংরা ইঙ্গিত দেওয়া মন্তব্য করেছেন বেশকিছু নেটিজেন। আর তাদের ঝাঁঝালো জবাব দিতে গিয়ে এই প্রশ্ন করেছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

দু-দিন আগেই অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই নায়িকার কুকুরদের প্রতি প্রেম কারো অজানা নয়। সেই প্রেম থেকে পথকুকুরদের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই জন্মদিনের মাসে নিজের পরা পোশাক এবং অ্যাকসেসরিজ নিলামে তুলছেন তিনি। নিলামের টাকা সরাসরি চলে যাবে নির্দিষ্ট কিছু এনজিও-তে। যারা সারাবছর রাস্তার সারমেয়দের জন্য কাজ করে।

স্বস্তিকার এই উদ্যোগে শামিল হয়েছে তাঁর মেয়ে অন্বেষাও। অন্বেষা নিজের বেশ কিছু বেল্ট নিলামের জন্য দিয়েছেন। এই প্রয়াসকে যেমন সাধুবাদ জানাচ্ছেন বহু মানুষ, সমর্থনের জন্য এগিয়ে আসছেন তেমনই নিন্দুকেরও অভাব নেই। কেউ কেউ শালীনতার মাত্রাও ছাড়িয়েছেন আক্রমণ করতে গিয়ে। কেউ বলছেন, বেশি দামে জিনিস বিক্রি করে ব্যবসা করছেন, কেউ আবার অভিনেত্রীর মেয়েকে নিয়েই কটূক্তি করছে।

স্বস্তিকার পোস্টে, তাঁর মেয়ের ছবিতে একজন মন্তব্য করেন- ‘১৯০০ টাকায় তো মেয়ে-সহ পেয়ে যাবো দিদি’। এই মন্তব্যের চাঁচাছোলা জবাবে স্বস্তিকা লেখেন, ‘বাংলাদেশে ১৯০০ টাকায় মেয়ে বিক্রি হয়? তোমরা কেনো? বিক্রিও করো? সেটা আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে বলে নাম কিনছো! কী দারুণ ব্যাপার’।

নিউ মার্কেটে এই বেল্ট ১৫০ টাকায় পাওয়া যায়, এমন কটাক্ষের জবাবে স্বস্তিকা আক্ষেপের সুরে বলেন- ‘উনি ভাবছেন আমি আমার জিনিস বিক্রি করে নিজে লাভ করছি, বিজনেস করছি। বিষয়টা এর চেয়ে ভালোভাবে কীভাবে বোঝানো সম্ভব আমার জানা নেই…. চ্যারিটি মানে বিজনেস নয় এটা উনি বুঝতে পারছেন না’।

নিজের প্রিয় প্রাণী কুকুরদের জন্য শীতের জামা এবং ট্রিটমেন্টের জন্যই নিজের আলমারির জিনিস নিলামে তুলছেন স্বস্তিকা। সেইসব জিনিস তাঁর মনের খুব কাছের। ইতিমধ্যেই প্রয়াত বাবার দেওয়া কানের জিনিসের নিলাম করেছেন স্বস্তিকা, নিজের পছন্দের দুটি নেকলেসও বিক্রি করেছেন। অথচ তাঁর ভাবনার কদর না করে অনেকেই ‘বড্ড দাম’, ‘বেশি পয়সা নিচ্ছে’, এমন মন্তব্য করছে। তবে পালটা জবাব দিতে ছাড়ছেন না স্বস্তিকাও।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*