আমরা রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার স্বীকার করি’

palo-logo

বাংলাদেশ
বিশেষ সাক্ষাৎকার: আরাকান আর্মির প্রধান
‘আমরা রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার স্বীকার করি’
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২২, ১২: ০০
অ+
অ-
মিয়ানমারের আরাকান বা রাখাইন রাজ্য বাংলাদেশের অতীত ও বর্তমানের নিকট প্রতিবেশী। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এসে বাংলাদেশকে বিপুল ভাবনায় ফেলেছে এই রাজ্য। সেখানকার বড় এক রাজনৈতিক ও সামরিক চরিত্র আরাকান আর্মি। জেনারেল ওয়াং ম্রা নাইং হলেন এর কমান্ডার ইন চিফ। আরাকান ও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বাংলাদেশের তিনজন সাংবাদিক-গবেষকের সঙ্গে। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে জুমের মাধ্যমে শিন প্রদেশ থেকে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আশফাক রণি, শফিকুল আলম ও আলতাফ পারভেজ।

ওয়াং ম্রা নাইং
ওয়াং ম্রা নাইংফাইল ছবি: রয়টার্স
বিজ্ঞাপন

জেনারেল নাইং, আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাওয়ার জন্য ধন্যবাদ…

জেনারেল নাইং: আমি ইংরেজিতে ভিন্ন ভাষী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সতর্ক হয়ে পড়ি। আমাদের পরিস্থিতি খুব জটিল। আমাদের কাজের কৌশলও খুব জটিল। ইংরেজি আমাদের ভাষা নয়। ওই ভাষায় বাইরের দেশের মানুষের কাছে সহজে আমাদের বক্তব্য প্রকাশ সহজ নয়, বিপদও আছে। এমনকি আমরা অনেক কৌশলগত বিষয় বাইরে তুলে ধরতেও চাই না, যদি না তা থেকে কৌশলগত কোনো লাভ তৈরি হয়। আপনাদের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারেও দ্বিতীয়বার ভেবেছি। আপনারা হয়তো আমাকে রোহিঙ্গাদের বিষয়েও জিজ্ঞাসা করবেন। আমরা তাঁদের ‘রাখাইনের মুসলমান অধিবাসী’ বলি। আপনারা আমাদের প্রতিবেশী। বাংলাদেশে আমি কোনো ভুল–বোঝাবুঝির জন্ম দিতে চাই না।

আরাকানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইছি। আরকান আর্মি কী করছে সেখানে? পুরো পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে?

জেনারেল নাইং: আমরা এ মুহূর্তে বার্মার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে আছি। যুদ্ধবিরতির আগে পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। দু-তিন ব্যাটালিয়ন ছাড়া তারা কোনো এলাকায় যেতে পারছিল না। আমাদের উপস্থিতি ও প্রতিরোধের মাত্রাটা এ থেকে বুঝতে পারবেন। এখন যে যুদ্ধবিরতি চলছে, সেটা সাময়িক। উভয় পক্ষে মাঝে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা চুক্তি হয়নি। মাঝেমধ্যে কিছু ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হয়। তারা আমাদের প্রশাসন ও বিচারকাজ নিয়ে আপত্তি তোলে।
রাখাইনে একধরনের প্রশাসন পরিচালনা করছি আমরা। আমাদের বিচারব্যবস্থা গড়ে উঠছে সেখানে। আমরা কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছি। বার্মায় এটা নতুন নয়। যেসব জাতিসত্তা সশস্ত্র আন্দোলনে আছে, প্রায় সবাই নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করে যার যার এলাকায়। এ মুহূর্ত যুদ্ধ বন্ধ থাকায় আমরা মূল মনোযোগ দিচ্ছি দখল করা এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কাজে।

বিজ্ঞাপন

উত্তর ও দক্ষিণ আরাকানে আপনাদের নিয়ন্ত্রণে হেরফের আছে?

জেনারেল নাইং: আমরা মূলত আরাকানের টাউনশিপগুলোতে আছি, টাউনে নয়। সেখানেও ঢুকতে পারি আমরা। সে রকম যথেষ্ট শক্তি আছে আমাদের। কিন্তু তাতে ক্ষয়ক্ষতি হবে। বার্মার মিলিটারি খুবই নির্মম। তাদের আমরা কম সুযোগ দিতে চাই।

২০২০-এ আপনি একবার বলেছিলেন, আরাকান আর্মির একটা স্বপ্ন, অলিম্পিকে আপনাদের পতাকা ও জাতীয় সংগীত দেখতে ও শুনতে চান। এর মানে কি এই দাঁড়ায়, আপনারা স্বাধীন আরাকানের জন্য লড়ছেন?

জেনারেল নাইং: আমরা স্বাধীনতা ঘোষণা করিনি। তবে পরোক্ষভাবে আমরা রাখাইন জনগণকে আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যের কথা বলি। আমরা আসলে বাইরের স্বীকৃতির চেয়ে অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের জন্য লড়ছি। আমরা এ মুহূর্তের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে বিবেচনায় রাখছি। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতসহ অনেক দেশ তাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এখন এ অঞ্চলে পরিস্থিতি আলাদা। আশপাশের শক্তিশালী দেশগুলো কেউ চাইছে না এ অঞ্চলে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হোক। এ রকম রাষ্ট্র বেরিয়ে এলে শক্তিশালী দেশগুলোর ভয় হলো তাদের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’রা উৎসাহিত হবে।

তার মানে আপনারা মূলত স্বায়ত্তশাসন চাইছেন?

জেনারেল নাইং: চূড়ান্তভাবে আমরা স্বাধীনতা চাই বটে, কিন্তু সেটার জন্য অনেক পদক্ষেপ ফেলতে হবে। সেটা সময়সাপেক্ষ।

বিজ্ঞাপন

আপনাদের ২০ হাজার ক্যাডার রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ২০২০ সালে। এ–ও বলেছিলেন, এটা ৭০ হাজারে নিতে চান আপনারা। কবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাচ্ছেন?

জেনারেল নাইং: আমাদের আসলে এখন ৩০ হাজারের মতো সৈনিক আছে। সামরিক সরঞ্জাম জোগাড় সহজ নয়। অনেক দুরূহ। আপনার যখন একটা রাজনৈতিক লক্ষ্য থাকে, তখন সেই অনুযায়ী বাকি সব সম্ভব করতে হয়। আমাদের আপাতত ৩০ থেকে ৫০ হাজার সৈনিক দরকার, পূর্বপুরুষের ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য। জনগণের মধ্যে আগ্রহও আছে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য। পরিস্থিতি আমাদের অনুকূল—এটাই কেবল বলতে পারি। কবে লক্ষ্যে পৌঁছাব, সেটা ঠিক করে বলা কঠিন।

আপনি বলছেন আরাকান আর্মি প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এতে তো মনে হচ্ছে আপনারা রাজনৈতিক লক্ষ্যে বেশ এগিয়েছেন। আবার এ–ও বলছেন, পুরো আরাকানে আপনারা নেই। তাহলে বিচারব্যবস্থা কোথায়—কীভাবে পরিচালনা করছেন?

জেনারেল নাইং: আমাদের নিজস্ব পুলিশ বাহিনী রয়েছে। জনতার মাঝে গ্রহণযোগ্যতা থাকলে বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, তাদের বিরোধকে ন্যায়ানুগ পথে সমাধান করতে হবে—এটাই আমাদের অভিজ্ঞতা।

আরাকান আর্মি কেন্দ্রীয় মিয়ানমারের অভ্যুত্থানবিরোধী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে অনুপস্থিত কেন? এ ক্ষেত্রে ঠিক কী কৌশল নিয়েছেন?

জেনারেল নাইং: আমাদের মূল লক্ষ্য ‘রাখিতা’—হারানো সার্বভৌমত্ব ফিরে পাওয়া। আরাকানের আগের প্রজন্ম বার্মিজদের অনুসরণ ও সহযোগিতা করতে গিয়ে অনেক সময় অপচয় করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে আরাকানের রাজনীতিবিদেরা জেনারেল অং সানসহ বার্মিজদের সঙ্গে কাজ করেছেন সহযোগিতামূলকভাবে। কিন্তু আরাকান তার সমতামূলক রাজনৈতিক হিস্যা পায়নি। ১৯৮৮ সালের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনেও আরাকান সম্পৃক্ত ছিল, কিন্তু লাভবান হয়নি। সেসব অভিজ্ঞতা থেকে আমরা আর বার্মিজদের অনুসরণ করতে চাই না। আমরা বরং নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চাই। আমরা যে বার্মার চলতি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে কিছুটা দূরে রয়েছি, সেটা আমাদের কৌশলগত অবস্থান। আবার আমরা সরাসরি অংশ না নিলেও আমাদের অনেক সহযোগী সংগঠন ওই আন্দোলনে আছে। তবে আমি বলব, আমর

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*