অসুস্থ মায়ের জন্য বিপিএল খেলতে চেয়েছিলেন শাহাদাত

শাহাদাত তাঁর মাকে কথা দিয়েছেন আরেকবার জাতীয় দলে ফিরবেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে মাঠ মাতাবেন আরেকবার। ছেলের মাঠে নামার সেই দৃশ্য টিভিতে দেখবেন অসুস্থ মা।

সেই জাতীয় দলে ফেরার জন্যই চলছিল প্রস্তুতি। এবছর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটার লিগে খেলেছিলেন পার্টেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। ডিপিএলে শুরুটা ভালোই হয়েছিল। প্রথম চার ম্যাচে চার উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ইকোনমি রেট ধরে রেখেছিলেন ৬ এর নিচে।

বাংলাদেশের একমাত্র পেসার হিসেবে লর্ডসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে এখনো বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পেসারদের একজন ভাবা হয় শাহাদাত হোসেন রাজীবকে। তবে লম্বা সময় ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে এই পেসার। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে শেষ মাঠে নেমেছিলেন ২০১৫ সালে। তবুও আরেকবার মাঠে ফিরতে চেয়েছিলেন অসুস্থ মায়ের জন্য। বিপিএলের দরজা দিয়ে ঢুকতে চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

শাহাদাত তাঁর মাকে কথা দিয়েছেন আরেকবার জাতীয় দলে ফিরবেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে মাঠ মাতাবেন আরেকবার। ছেলের মাঠে নামার সেই দৃশ্য টিভিতে দেখবেন অসুস্থ মা। সেই জাতীয় দলে ফেরার জন্যই চলছিল প্রস্তুতি। এবছর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটার লিগে খেলেছিলেন পার্টেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। ডিপিএলে শুরুটা ভালোই হয়েছিল। প্রথম চার ম্যাচে চার উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ইকোনমি রেট ধরে রেখেছিলেন ৬ এর নিচে।

সবমিলিয়ে ডিপিএলে নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। এই পারফর্মেন্সের জোরেই বিপিএলে দল পাওয়ার আশায় ছিলেন শাহাদাত হোসেন রাজীব। তবে প্লেয়ার ড্রাফটে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজিই তাঁকে দলে না নেয়ায় জানাচ্ছিলেন নিজের হতাশার কথা। বলছিলেন, ‘ডিপিএলে আমি ভালো বোলিং করেছি। এবার বিপিএলটা খেলতে চাইছিলাম। তবে কেউই তো নিল না। হতাশা প্রকাশ করা ছাড়া আর কীই বা করার আছে।’

এছাড়া আবারের বিপিএলের ড্রাফটে দল পাননি এই মুহূর্তে টেস্ট দলের নিয়মিত পেসার আবু জায়েদ রাহিও। অথচ বিপিএলের নিয়মিত পারফর্মার রাহি। বিপিএলে এখন পর্যন্ত ২১.৮৫ গড়ে এই বোলারের ঝুলিতে আছে ৫৭ উইকেট। এই পেসারেরও দল না পাওয়া নিয়েও রাজীব বলেন, ‘রাহি তো এখন জাতীয় দলের বোলার। ভালো বোলিং করে বিপিএলেও। এমন একটা পেসার দল না পাওয়া তো আমাদের জন্য লজ্জাজনক।’

রাহির দল না পাওয়াটা সত্যিই লজ্জাজনক বটে। তবে শাহাদাতের আশার সাথেও আছে বাস্তবের ফারাক। অনেকদিন মাঠের ক্রিকেটে ঠিক নিয়মিত না হওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি গুলোরও তাঁর প্রতি ভরসা করা কঠিন। ডিপিএলে প্রথম চার ম্যাচে ভালো বোলিং করলেও পরের ম্যাচগুলোতে আবার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন ১২ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে। ইকোনমি রেট ছিল ৭.৩৪।

তবুও নিজের আশা ছাড়ছেন না এই পেসার। এখন তাকিয়ে আছে আসছে প্রিমিয়ার লিগের দিকে। সেখানে পারফর্ম করেই আবার নিজেকে প্রমাণ করতে চান। নিজের পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘বিপিএলে দল পেলাম না, কী আর করবো। মনে একটু কষ্ট তো আছেই। তবে প্রিমিয়ার লিগের জন্য অপেক্ষা করবো। সেখান থেকেই আবার ফিরতে চাই।’

ওদিকে অনেকদিন ধরেই অসুস্থ শাহাদাতের মা। লড়ছেন ক্যান্সারের সাথে। নিজের মাকে দেয়া কথা রাখতেই বাড়তি একটা তাড়না কাজ করে এই পেসারের। নিজের মাকে দেয়া কথা রাখতেই ফিরতে চান জাতীয় দলে। খানিকটা আক্ষেপ নিয়েই বলছিলেন, ‘আমার মা তো অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। এবার বিপিএলে দল পেলেও তিনিও খুশি হতেন। টিভিতে বসে আমার খেলা আবার দেখতে পারতেন। কিন্তু এখন তো অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*