২য় দিনের মতো উচ্ছেদে সিটি করপোরেশন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। গতকাল বুধবার উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের রানাভোলা এভিনিউ, ১২/এ, ১৩/এ, ২২ এবং ২৪ নম্বর রোডে স্তূপ করে রাখা কাঠ বাঁশ ও টং দোকান এবং সড়ক ও ফুটপাতে রাখা বিভিন্ন সামগ্রীসহ বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। সিটি করপোরেশন ও সেক্টর কল্যাণ সমিতির উচ্ছেদ টিম অভিযান পরিচালনা করে। ‘উত্তরায় প্লট-জমি ও সড়ক দখল করে বাণিজ্য’ শিরোনামে যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই দফায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। গতকালের উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (উপসচিব) জুলকার নায়ন। সহযোগিতা করেন কাউন্সিলরের প্রতিনিধি, উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ এবং ১০ নং সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির একটি টিম।

এ সময় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা গাড়ির গ্যারেজ ও বিভিন্ন স্থাপনাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমান এবং মালামাল ৭৬ হাজার ৫০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এছাড়া আবাসিক প্লটে বিভিন্ন গাড়ির গ্যারেজ ও সিএনজি স্ট্যান্ড সরানোর জন্য নোটিশ করে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সতর্ক করে দেওয়া হয় নির্ধারিত সময়ে এসব সরিয়ে নেওয়া না হলে চলমান উচ্ছেদের আওতায় আনা হবে। এ নিয়ে কথা হয় ১০নং সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইনসাফ আলী ওসমানীর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, সিটি করপোরেশন, রাজউক বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের যেই অভিযান পরিচালনা করবেন আমরা তাদের সহযোগিতা করব। তিনি বলেন, আবাসিক প্লটে গ্যারেজ ও বাণিজ্যিক ব্যবহার করার বিষয়ে রাজউককে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং উচ্ছেদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (উপসচিব) জুলকার নায়ন যুগান্তরকে বলেন, মঙ্গলবার থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। আজকের (বুধবার) অভিযানে ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজি আফসার উদ্দিন খানের প্রতিনিধি সহযোগিতা করেছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী সচিব যুগান্তরকে জানান, এসব অঞ্চলে কিছুদিন আগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আবারও সেখানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার কথা জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় বাজেট দিলে অচিরেই আবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উপ-পরিচালক (স্টেট ও ভূমি-২) নাদিমূল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, আবাসিক প্লটে গাড়ির গ্যারেজ এবং বাণিজ্যিক স্থাপনার বিষয়ে যুগান্তরে রিপোর্ট দেখে তিনি টিম নিয়ে এলাকায় পরিদর্শন করেছেন। প্লট মালিককে সময় বেঁধে দিয়ে চিঠি দেওয়া হবে এবং বেঁধে দেওয়া সময়ে গ্যারেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না সরালে উচ্ছেদ অভিযান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দখল বাণিজ্যের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ সদস্য হাবিব হাসান যুগান্তরকে বলেন, আমার এলাকায় কোন অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। তিনি বলেন, অবৈধ দখল মুক্ত করে দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কাউকে এসব করতে দেওয়া হবে না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*